Posts

গ্রন্থ সমালোচনা - "স্ত্রী"

• গ্রন্থ - স্ত্রী • লেখক - বিমল মিত্র • সাহিত্য বিষয় - উপন্যাস (স্বল্পদৈর্ঘ্য) • উপন্যাসের প্রকৃতি - ক্লাসিক উপন্যাস • মূল বিষয় - সমগ্র উপন্যাস কে অধিগ্রহণ করে রেখেছে "সমাজ মনস্কতা"।তৎকালীন উত্তর কলিকাতা-র অঞ্চলভেদ,আভিজাত্যময় বংশানুক্রমিক প্রথা, পুরুষতন্ত্রের উগ্র প্রভাব এবং ঘরের বউ - সহধর্মিণী - সুদর্শনা সম্পর্কে গভীর ব্যঞ্জনা রয়েছে। 'মাধব দত্ত '- চরিত্র টি যতটা রূঢ় - ভোগবিলাসে নিত্য ব্যস্ত - বর্ণময় রুচিশীল জীবন ; সমান্তরালে ছিল শিশু সুলভ মানস - মিত্রপ্রিয়তা -সরলতা - দয়ালু - উদারনৈতিক। পক্ষান্তরে, "সীতাপতি" ক্রমবিবর্তনের দোসর হলেও ; অনেকটাই করুন রসাত্মক।প্রত্যক্ষ - পরোক্ষ তার দুই ভূমিকা খিড়কির দুয়ার এবং সিংহ দুয়ার দুই সামলাতে আগ্রাসী। কালক্রম, কর্মদোষ ও অদৃষ্টের প্রভাব তার পরিণতি-র জন্য একান্ত দায়ী। দত্ত বাড়ির পুরুষ ক্রমে চলে আসছে বনেদিয়ানা, চল্লিশ বছর আগে সীতাপতির সেই দত্ত বাড়িতে আগমন, কিভাবে তার অবনমন হয়, দত্ত বাড়ির আভিজাত্য চল্লিশ বছরে কিভাবে তলানিতে এসে ঠেকেছে তা উপন্যাস মধ্যে দেখা যায় ; এছাড়াও মধুর প্রতিশোধ কাহিনীর বয়ান ও রয...

চলচ্চিত্র সমালোচনা - জয় বাবা ফেলুনাথ

চলচ্চিত্র -  জয় বাবা ফেলুনাথ পরিচালক - সত্যজিৎ রায়, প্রযোজনা - আর. ডি. বনশল, প্রকাশ - ১৯৭৯, ৫ জানুয়ারি দৈর্ঘ্য - ১১২ মিনিট আয় - ৭ লাখ ব্যয় - ৬ লাখ (তথ্যগুলি উইকিপিডিয়া থেকে গৃহীত) কাহিনী সংক্ষেপ এই কাহিনীর সূত্রপাত হয় কাশী -বেনারস ভ্রমণরত তিনসঙ্গী ফেলুদা - তোপসে - জটায়ু কে নিয়ে।মূলত, ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্রাক- শারদীয়া মুহূর্তে তারা উপস্থিত হলেও "ফেলুদা" কে এখানেও ধাবা করেছে রহস্য। তাই লালমোহন বাবুর মন যে রোমাঞ্চের জন্য দর কষাকষি করছিলেন তা কাহিনীর বাকিতেও দেখায় যায়। বেনারসের ঘোষাল বাড়ি তখনও বনেদিয়ানা পূর্ণ ; সেখানে একটি চুরির ঘটনা এবং সেই চুরি কে কেন্দ্র করে ফেলুদার পুনরায় পেশাদারী হয়ে ওঠা। একই সঙ্গে রোমাঞ্চ ধারা ও চমকের অপূর্ব মিলন গাথা গঠিত হয়ছে। অতপর, লালমোহন বাবুর ঔপন্যাসিক মানসের বিকাশ এবং বিশিষ্ট ভাবনার জোর ও ফুটে উঠেছে চিত্র মধ্যে। বিশেষ বৈশিষ্ট্য • বহু দৃশ্যেই সুন্দরভাবে এক শিহরণ জাগানো পরিস্থিতি রয়েছে। • কাহিনীর মধ্যে উপকাহিনী এবং রহস্যের জটিলময়তা দর্শকদের মননে টানটান উত্তেজনা এবং শেষ মুহূর্ত অবধি টানা দেখার পক্ষে উপযোগী। • খ...

সংস্কার যখন শ্রবনে আসে; কুসংস্কার তখন নজরে ভাসে।।

রইলো অনেকদিনের পাতা বন্দী একটি লেখনী ; দেববাদ, ধর্ম, আধ্ম্যাতিকতা, পৌ ত্তুলিকতা আর কত কি শোনা যায় এখানে পুজা অর্চনা নিয়ে একটু সুর তুললেই। তাই ওই তুষের আগুন জ্বালানোর চাইতে মুখে কুলুপ এঁটে কাগজে লিখে সবাইকে দেখাও যে ; আমার দরজায় খিল দিয়েছে তোমার দারুন জ্বর।। মানে কোনটা ধরবো আর কি ছাড়বো ; দাড়ানো বা বসা মূর্তি , মৃয়মান সেই মুখ, ভয়ের জেরে চিত্তের পক্ষে করজোর.. ভক্তি অপেক্ষা মাথা নত অধিকতর কার্যকর!! আইনের শাসন নয় বিরল, তার নয় চোখে কাপড়.. তাই সে * *অন্ধ্যা কানুন * * কিন্তু আজ একটা মন্দিরে যখন সতীত্ব নাশ করা হয় তখন সে সমাজের কাছে অসতী; তাহলে কি ভগবান ও চোখে কিছু বেধেছে??... এবার  আমি হচ্ছি একটু অপকর্মের দায়ভার গ্রহণকারী!!.. আমি নাস্তিক আস্তিক কে ছাড়িয়ে দু পদ উঁচুতে অবস্থিত; হ্যাঁ আমি বকধার্মিক!! কারণ ধর্ম ব্যাবসা হলে আমি কেন বকধার্মিক হতে পারিনা!!!.. এবার বিশ্বাসে সবই মিলিয়ে যায় ; আর তর্কে বহুদূর গড়িয়ে ইতি থেকে ইত্যাদি আর আসতে দেয়না!!.. কিন্তু আমিও যেকোন বার,দিন, গ্রহ,নক্ষত্র, স্থান, কাল, মুহূর্তে মানতে রাজি এই মহাবিশ্ব একটা অতিপ্রাকৃত শক্তিদ্বারা সৃষ্ট!!.. হ্যাঁ স...

বিরহ

     একান্ত আপন মনে চিন্তায় যে পরে আমি  নিরবে শান্ত স্বরে আকাশ পানে পথটি চেয়ে অপেক্ষার কবে ঘটবে অবসান আসবে কবে তোমার সংকেত চিঠি বিরহ সাগরে ডুবছে যে মন, সুখের কোনো নাইকো দেখা মিলন হবে তার সনে,   প্রিয়তমা আসবে ফিরে সুখের প্রভাত উদয় হবে বিরহ ডুববে অতল অন্ধকারে।                       _ সৌভিক ঘোষ

মনের সঙ্গী

               কত কাহিনী বহনকারী             আমার হৃদয়ের যত্ন ধারি,           তুলে নিয়েছে আপনার কোলে,        স্বপনভেলায় ভেসেছে জগৎ ভুলে।         দুঃখের সময়      আঁকড়ে ধরে,              অশ্রুবারি দেয় মুছায়ে।            ভুলভ্রান্তি     নিমেষে মেটায়ে          ব্যাথা-বেদনায় ভাগ বসায়ে, তোমার দায়িত্ব নেব কাঁধে, থাকব তোমার সনে, যেমন আছি তেমনি রয়ে যাব মননে মননে।।

কর্ম ভাগ্যকে হার মানিয়েছে।।

বহুত হাতরে দেখতে পেল অসিত ভয় টা ফলে গেল ; ব্যাক পেয়ছে।। মুখের নিঃশব্দতা প্রমাণ করে দিচ্ছে, মা বাবা সান্তনা দিতে ব্যস্ত। সে পাথর হয়ে বসে আছে,ভাবছে !! নিজেই নিজের ভাগ্যের সাথে নোংরা খেলা খেলল!! বন্ধুত্ব সংযোগ টাও ঘুচে যাবে!! কারণ সবাই তো কলেজ,সেমিস্টার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।। প্রেমিকা টাও ছেড়ে দেবে এবার! ব্যর্থ মানুষের সাথে কে থাকে।। রাতে নিজের ঘোরে শুয়ে গুমরে গুমরে কাদছে।। পরদিন এক আত্মীয়র বিয়ে ছিল বাবা মা র শত অনুরোধ নাকোচ করে সে ভরসা জুগিয়ে বাড়ীতে রয়ছে।। মনের জোর বাড়িয়েছে যে মরতে যাবে না!! বসে ভাবছে আরো পড়া উচিত ছিল কিন্তু হটাৎ , একটা ফোন তার দুঃখ এক নিমেষে লাখ গুন বাড়িয়ে দিল ; সে জানতে পারে পথ দুর্ঘটনায় তার বাবা মা র অবস্থা সঙ্কটজনক , তাদের ফোন থেকেই ছেলের নাম্বার পাওয়া গেছে।। ভাবছে এতো খারাপ কোনদিন হয়নি!!!.. সত্যিঅসিতের কপাল খারাপ ছিল বাবা মা দুজনেরই মৃত্যু ঘটে।। অন্তস্তি র কাজ মিটিয়ে বসে সে, ভাবছে হয়ত এবার বাবা মায়ের কাছে চলে গেলে সে শান্তি পাবে।। আত্মীয় রা এগিয়ে এলেও একার জীবন একার হাতে রাখতে চায় সে ; বাড়ীতে একা থাকা অবস্থায় সে চিৎকার করে কাদে আর ব...

মাধ্যম বিশ্বাসের আগে!!

Image
যা দেখতে পাচ্ছি এই বিষয়ে আলোকপাত করা বা দৃষ্টান্ত দেওয়া একান্ত কাম্য!!... কারণ, দুটো জিনিস সামাজিক বিয়ে নিয়ে নূন্যতম ধ্যান_ধারণা না থেকেও সিঁদুর পড়তে লাফানো আর অর্বাচীনদের **লিভিংর** বিরোধিতা।। তাই বিষয় ভিত্তিক লেখা হিসেবে নেবেন না, বোধগম্য করানোর চেষ্টা।। লোকসাহিত্য বা লোককথা একটু পড়লেই জানা যায়, সেই প্রাচীনকালে প্রচলিত ছিল** দাসব্যবস্থা**..মানে??... কিছুই না ; দুটি গোষ্ঠী বা দলের মধ্যে সংঘর্ষ...অতঃপর, যে গোষ্ঠী পরাজিত হত তারা অপর গোষ্ঠীর কাছে "আনুগত্য" প্রদর্শন করত।। এখানেই শেষ নয়!!!!... যদি পরাজিত গোষ্ঠীতে কোনো মহিলা থাকতো তাহলে তার কপালে তপ্ত লৌহ দন্ডের দাগ বসানো হত, ফলে তার কপালের মাংস পুড়ে লাল রঙের গর্ত মতন আকার ধারণ করতো।।এছাড়াও, তাদের হাতে লোহার বেড় পড়ানো হত, যাতে তারা পালাতে না পারে।। এইসবের আধুনিকতম সংস্করণ হিসেবে সিঁদুর ও শাখা_পলা সামাজিক বিয়ের মূল আকর্ষন।। অপরদিকে, শর্তবিহীন একে অপরের সঙ্গে জীবনযাপন করছে এমন অবস্থা হলো **লিভিং**।। যার মত, যার ইচ্ছা তার কাছেই থাকবে। কিন্তু, অর্বাচীন দের উদ্দেশে বলা; যারা বলে শাখা_সিঁদুর পড়বে না এ কেমন...