কর্ম ভাগ্যকে হার মানিয়েছে।।

বহুত হাতরে দেখতে পেল অসিত ভয় টা ফলে গেল ; ব্যাক পেয়ছে।। মুখের নিঃশব্দতা প্রমাণ করে দিচ্ছে, মা বাবা সান্তনা দিতে ব্যস্ত। সে পাথর হয়ে বসে আছে,ভাবছে !! নিজেই নিজের ভাগ্যের সাথে নোংরা খেলা খেলল!!
বন্ধুত্ব সংযোগ টাও ঘুচে যাবে!! কারণ সবাই তো কলেজ,সেমিস্টার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।।
প্রেমিকা টাও ছেড়ে দেবে এবার! ব্যর্থ মানুষের সাথে কে থাকে।।
রাতে নিজের ঘোরে শুয়ে গুমরে গুমরে কাদছে।।
পরদিন এক আত্মীয়র বিয়ে ছিল বাবা মা র শত অনুরোধ নাকোচ করে সে ভরসা জুগিয়ে বাড়ীতে রয়ছে।।
মনের জোর বাড়িয়েছে যে মরতে যাবে না!!
বসে ভাবছে আরো পড়া উচিত ছিল কিন্তু হটাৎ , একটা ফোন তার দুঃখ এক নিমেষে লাখ গুন বাড়িয়ে দিল ; সে জানতে পারে পথ দুর্ঘটনায় তার বাবা মা র অবস্থা সঙ্কটজনক , তাদের ফোন থেকেই ছেলের নাম্বার পাওয়া গেছে।। ভাবছে এতো খারাপ কোনদিন হয়নি!!!..
সত্যিঅসিতের কপাল খারাপ ছিল বাবা মা দুজনেরই মৃত্যু ঘটে।।
অন্তস্তি র কাজ মিটিয়ে বসে সে, ভাবছে হয়ত এবার বাবা মায়ের কাছে চলে গেলে সে শান্তি পাবে।। আত্মীয় রা এগিয়ে এলেও একার জীবন একার হাতে রাখতে চায় সে ; বাড়ীতে একা থাকা অবস্থায় সে চিৎকার করে কাদে আর বলে আর সে একা থাকতে চায় না.. আর সে বদ্ধ ঘরে কাটাতে চায়না।।
এর মাঝে, তার ভ্রান্তি ঘোচে অনেক। তার গোটা এই সময় টায় বন্ধুরা পাশে থাকে।।
এমনকি যত টা পারে ফোনে , মেসজে যোগাযোগ রাখতো।।
তার কাছের বন্ধুরা মাঝেমাঝেই তার বাড়িতে ও আসতো।। শুধু তাই নয়, প্রেমিকা ও চাপের মাঝে সময় বের করে রাখে।।

মাস কয়েক পর সে নিজেই একটা কাজ খুঁজলো, আর বাকিটা সময় পড়া।। বছর ঘুরতে চললো, পরীক্ষাও দিল এবার আর ভয় নেই।। রেজাল্ট বাবা মায়ের ছবির পাশে রেজাল্ট টা রেখে কান্নায় ভেঙে পরে সে।। কলেজে ভর্তি র পর ও সে কাজটা ছাড়েনা, কোনরকম চালিয়ে যায়।। বন্ধুরা আজও হটাৎ হটাৎ তার বাড়ি টপকে পরে রাতের দিকে জানে অনাথ হতে দেওয়া যাবেনা!! বন্ধু আর সঙ্গিনী টি তার শেষ আশা।।
দিন যায়, বছর যায়, ডবল অনার্স করে গ্রাজুয়েট হয়।। যা আয় করে সংসার ও চলে যায়, এবার ভেবেছে মেয়টার বাড়ির সঙ্গে কথা বলে বিয়েটা সেরে ফেলবে সে!!
কথা ঠিক হয়ে যায়, বিয়ের দিন গায়ে হলুদের সময় চান করতে ঢুকেছে আর কলঘরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের থেকে জল লেগে তার বউ বিদ্যুত পৃষ্ট হয়ে পরে ; অসিত ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে কাদতে থাকে আর বুঝে যায় সুখ নেই তার কপালে, আর থাকলেও কষ্টের মাঝে সেটা হারাতেই বসছে।। আজ তার সেই দিনের কথা মনে পড়ছে, নিজের হাতে বাবা মা আর শেষে আজ বউয়ের ও মুখাগ্নি করছে সে!!!

নাহ!! সে এখনো মনের দিক থেকে শক্ত বিধির বিধান খন্ডাতে না পারলেও সে না লড়ে হারবে না!!
সমস্ত কাজ ছেড়ে সে বৃদ্ধ্যা আশ্রম খুললো, আর সেই বয়স্ক বাবা মা গুলো দের নিয়ে জীবন কাটাতে লাগলো ; আর বলতো আমার আর হারানোর কিছু নেই , কিন্তু একদিন আপনারা আমায় হারিয়ে ফেলবেন।। আর যখন সে বাবা মা আর মেয়টার ছবিতে মালা দিত, তখন সে বলতো আজ না হারালে নিজের ভুল বুঝতে পারতাম না; আপনাদেরও পেতাম না।। আমরা যাই করি সেটাই ফিরবে কর্মের মাধ্যমে!!...


এক বৃদ্ধা তাকে কোলে টেনে নেয় , তার কোলে মাথা রেখে, দু ফোঁটা জল গড়িয়ে আসে।। 

Comments

Popular posts from this blog

এক পলকের একটু দেখা!!

গ্রন্থ সমালোচনা - "স্ত্রী"